ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo এবার ঈদুল আজহায় ট্রেনের টিকিট মিলবে শুধু অনলাইনে Logo ঢাকা বারে সব পদ বিএনপির, একটিও পায়নি জামায়াত Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় জোট Logo বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ Logo এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল; সংসদে বিল পাস

অবিস্মরণীয় কালজয়ী রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা সুচিত্রা সেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 36
দেশবর্ণ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলা চলচ্চিত্রের অবিস্মরণীয় কালজয়ী রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা সুচিত্রা সেন। রূপ আর অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ করে রেখেছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। বাংলা সিনেমার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর আজ শুভ জন্মদিন।

১৯৩১ সালের আজকের এই দিনে পাবনা সদরে জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা সেন। চিরসবুজ এ নায়িকার প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ে করেন সমকালীন শিল্পপতি আদিনাথ সেনের ছেলে দিবানাথ সেনকে।

স্বামীর ইচ্ছাতেই বিয়ের পর টালিউডে পা রাখেন রমা সেন। ১৯৫১ সালে পরিচালক সুকুমার রায় ‘সাত নম্বর কয়েদী’ সিনেমার জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন। তখন স্বামী দিবানাথ তার স্ত্রী রমাকে নিয়ে আসেন পরিচালকের অরোরা স্টুডিওতে। ডাগর চোখের গভীর চাহনি আর মিষ্টি হাসির মেয়ে রমাকে পছন্দ হয় পরিচালকের।

রমা সেনের প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘শেষ কোথায়’ (১৯৫২) মুক্তি পায়নি। যে কারণে সুকুমার রায়ের ‘সাত নম্বর কয়েদী’ সিনেমার মাধ্যমেই টালিউডে যাত্রা শুরু অভিনেত্রীর। নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরী’ সিনেমায় ১৯৫২ সালে রমা সেন পাল্টিয়ে ‘সুচিত্রা সেন’ নামে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমার মাধ্যমে উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন।

তার পরেরটা শুধুই ইতিহাস। সুচিত্রার হাত ধরেই বদলে যায় বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকার সংজ্ঞা। মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেধে সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ উপহার দেন। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে লেখেন একের পর এক সুপারহিট সিনেমা।

সুচিত্রা সেন অভিনীত কালজয়ী বাংলা সিনেমার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘দেবী চৌধুরানী’,‘শাপ মোচন’, ‘হারানো সুর’, ‘পথে হল দেরি’, ‘ইন্দ্রাণী’, ‘সপ্তপদী’, ‘গৃহদাহ’, ‘হার মানা হার’, ‘হসপিটাল’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘সাগরিকা’, ‘দত্তা’ ইত্যাদি।

বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে হিন্দি ছবির জগতেও সুচিত্রা করেছিলেন বেশ কিছু অসাধারণ সিনেমা। ১৯৫৫-তে ‘দেবদাস’ সিনেমায় দিলীপ কুমারের বিপরীতে পার্বতীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ সিনেমায় অভিনয় করেই সুচিত্রা সেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন। এরপর ‘মমতা’ এবং ‘আঁধি’ সিনেমার জন্য ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারের মাধ্যমে সুচিত্রার অভিনয় প্রতিভার প্রতি কুর্ণিশ জানিয়েছিল বলিউড।

এখানেই শেষ নয়, সুচিত্রাই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পান। ১৯৬৩ তে প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে ‘সপ্তপদী’র জন্য পান মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার।

১৯৬০ ও ১৯৭০ দশকেও সুচিত্রা সেন অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সুচিত্রা সেন হিন্দি সিনেমা ‘আন্ধি’তে অভিনয় করেন। এ সিনেমায় একজন নেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন সুচিত্রা। ধারণা করা হয় ‘আন্ধি’ সিনেমায় তার চরিত্রটির প্রেরণা ইন্দিরা গান্ধী।

সুচিত্রা সেন অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘প্রণয় পাশা’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। ওই বছরই তিনি সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে চিরতরে অবসর নেন। অভিনয় জীবন থেকে দূরে সরে ব্যক্তিজীবনকে একেবারে ঘরবন্দি করেন। যে কারণে ২০০৫ সালে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার নিতেও যাননি তিনি। ২০১২ সালে বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কার পান। তার হয়ে কন্যা মুনমুন সেন এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

সুচিত্রা সেনের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেন একজন গুণী অভিনেত্রী। সুচিত্রার দুই নাতনী রিয়া ও রাইমা সেনও নানীর মতোই অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বাংলা সিনেমার এ মহানায়িকা ব্যক্তিজীবনের শেষ মুহূর্তটুকু পরিবারকেই সময় দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এ অভিনয়শিল্পী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অবিস্মরণীয় কালজয়ী রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা সুচিত্রা সেন

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের অবিস্মরণীয় কালজয়ী রোমান্টিক সিনেমার নায়িকা সুচিত্রা সেন। রূপ আর অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ করে রেখেছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। বাংলা সিনেমার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর আজ শুভ জন্মদিন।

১৯৩১ সালের আজকের এই দিনে পাবনা সদরে জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা সেন। চিরসবুজ এ নায়িকার প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ে করেন সমকালীন শিল্পপতি আদিনাথ সেনের ছেলে দিবানাথ সেনকে।

স্বামীর ইচ্ছাতেই বিয়ের পর টালিউডে পা রাখেন রমা সেন। ১৯৫১ সালে পরিচালক সুকুমার রায় ‘সাত নম্বর কয়েদী’ সিনেমার জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন। তখন স্বামী দিবানাথ তার স্ত্রী রমাকে নিয়ে আসেন পরিচালকের অরোরা স্টুডিওতে। ডাগর চোখের গভীর চাহনি আর মিষ্টি হাসির মেয়ে রমাকে পছন্দ হয় পরিচালকের।

রমা সেনের প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘শেষ কোথায়’ (১৯৫২) মুক্তি পায়নি। যে কারণে সুকুমার রায়ের ‘সাত নম্বর কয়েদী’ সিনেমার মাধ্যমেই টালিউডে যাত্রা শুরু অভিনেত্রীর। নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরী’ সিনেমায় ১৯৫২ সালে রমা সেন পাল্টিয়ে ‘সুচিত্রা সেন’ নামে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমার মাধ্যমে উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন।

তার পরেরটা শুধুই ইতিহাস। সুচিত্রার হাত ধরেই বদলে যায় বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকার সংজ্ঞা। মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেধে সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ উপহার দেন। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে লেখেন একের পর এক সুপারহিট সিনেমা।

সুচিত্রা সেন অভিনীত কালজয়ী বাংলা সিনেমার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘দেবী চৌধুরানী’,‘শাপ মোচন’, ‘হারানো সুর’, ‘পথে হল দেরি’, ‘ইন্দ্রাণী’, ‘সপ্তপদী’, ‘গৃহদাহ’, ‘হার মানা হার’, ‘হসপিটাল’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘সাগরিকা’, ‘দত্তা’ ইত্যাদি।

বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে হিন্দি ছবির জগতেও সুচিত্রা করেছিলেন বেশ কিছু অসাধারণ সিনেমা। ১৯৫৫-তে ‘দেবদাস’ সিনেমায় দিলীপ কুমারের বিপরীতে পার্বতীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ সিনেমায় অভিনয় করেই সুচিত্রা সেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন। এরপর ‘মমতা’ এবং ‘আঁধি’ সিনেমার জন্য ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারের মাধ্যমে সুচিত্রার অভিনয় প্রতিভার প্রতি কুর্ণিশ জানিয়েছিল বলিউড।

এখানেই শেষ নয়, সুচিত্রাই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পান। ১৯৬৩ তে প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে ‘সপ্তপদী’র জন্য পান মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার।

১৯৬০ ও ১৯৭০ দশকেও সুচিত্রা সেন অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সুচিত্রা সেন হিন্দি সিনেমা ‘আন্ধি’তে অভিনয় করেন। এ সিনেমায় একজন নেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন সুচিত্রা। ধারণা করা হয় ‘আন্ধি’ সিনেমায় তার চরিত্রটির প্রেরণা ইন্দিরা গান্ধী।

সুচিত্রা সেন অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘প্রণয় পাশা’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। ওই বছরই তিনি সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে চিরতরে অবসর নেন। অভিনয় জীবন থেকে দূরে সরে ব্যক্তিজীবনকে একেবারে ঘরবন্দি করেন। যে কারণে ২০০৫ সালে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার নিতেও যাননি তিনি। ২০১২ সালে বঙ্গ বিভূষণ পুরস্কার পান। তার হয়ে কন্যা মুনমুন সেন এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

সুচিত্রা সেনের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেন একজন গুণী অভিনেত্রী। সুচিত্রার দুই নাতনী রিয়া ও রাইমা সেনও নানীর মতোই অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বাংলা সিনেমার এ মহানায়িকা ব্যক্তিজীবনের শেষ মুহূর্তটুকু পরিবারকেই সময় দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এ অভিনয়শিল্পী।